Download App
Sign in | Register
Study vs Love dilemma in student life

পড়াশোনা নাকি প্রেম: ছাত্রজীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত কেন সবচেয়ে জরুরি

ছাত্রজীবনে প্রেম আসতেই পারে, কিন্তু সেটাই জীবনের শেষ কথা নয়। পড়াশোনাই কেন ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে শক্ত ভিত—তা নিয়েই এই লেখা।

ছাত্রজীবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ জীবনকে গড়ে দেয় বা ভেঙে দেয়। বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের জীবনে একটি বড় প্রশ্ন হলো—পড়াশোনা নাকি প্রেম? অনেকেই এই দ্বিধার মধ্যে পড়ে গিয়ে নিজের মূল লক্ষ্য থেকে সরে যায়, যার ফল ভোগ করতে হয় সারাজীবন। পড়াশোনায় ভালো করলে কেন সমস্যা শুরু হয়? আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি, কোনো ছেলে বা মেয়ে যখন পড়াশোনায় ভালো করে, তখন তার চারপাশে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুরা বেশি আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। আবার অনেক সময় ছেলেরাই মেয়েদের পেছনে ঘুরঘুর করে মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করে। এই অবস্থায় যদি প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়া যায়, তখন মনের ভিতরে জন্ম নেয়— হতাশা আত্মসম্মানবোধে আঘাত দ্বিধা ও মানসিক অস্থিরতা এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পড়াশোনার উপর। প্রেমের দ্বিধা কীভাবে পড়াশোনা নষ্ট করে? অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যায়— প্রথমে মনোযোগ কমে যায় পরে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে একপর্যায়ে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল এমনকি পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, প্রায় সংখক শিক্ষার্থী জীবনের কোনো না কোনো সময় প্রেমঘটিত কারণে পড়াশোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে অন্তত কিছু সংখক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণভাবে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রেম কি ভুল? না, কিন্তু সময়টা গুরুত্বপূর্ণ প্রেম কোনো অপরাধ নয়। এটা মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন প্রেম জীবনের লক্ষ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। ছাত্রজীবনে আমাদের প্রধান কাজ হলো— নিজেকে তৈরি করা দক্ষতা অর্জন করা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া এই সময়ে আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় সারাজীবনের আফসোস হয়ে দাঁড়ায়। আজ পড়াশোনা করলে ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর হবে আমাদের মনে রাখা উচিত— আজ যদি আমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করি, নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলি, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের সামনে আরও ভালো সুযোগ আসবে। ছেলে কিংবা মেয়ে—উভয়ের ক্ষেত্রেই সত্য যে ভবিষ্যতে আমরা— আরও সুন্দর আরও যোগ্য আরও মানসিকভাবে পরিপক্ব মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে পারি। তাই সাময়িক অবহেলা বা প্রত্যাখ্যানের কারণে মন খারাপ করে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মা–বাবার স্বপ্ন ও আমাদের দায়িত্ব আমরা প্রায়ই ভুলে যাই— মা–বাবার ত্যাগ তাঁদের স্বপ্ন আমাদের উপর তাঁদের প্রত্যাশা আমরা শুধু নিজের জন্যই বাঁচি না। পরিবার, সমাজ এবং দেশের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। পড়াশোনা করে একজন মানুষ শুধু নিজের জীবনই গড়ে তোলে না, বরং পরিবার ও সমাজের জন্য কিছু করার যোগ্যতা অর্জন করে। হতাশা এলে কী করা উচিত? প্রেমে ব্যর্থতা আসতেই পারে— কেউ পাত্তা না দিতে পারে সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে কিন্তু এসব কারণে— নিজেকে শেষ করে দেওয়া পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাওয়া কখনোই সমাধান নয়। বরং এই সময়ে দরকার— আত্মবিশ্বাস ধৈর্য নিজের লক্ষ্যকে আরও শক্ত করা উপসংহার ছাত্রজীবনে প্রেম আসতেই পারে, কিন্তু সেটাই জীবনের শেষ কথা নয়। পড়াশোনাই হওয়া উচিত প্রথম অগ্রাধিকার। আজকের পরিশ্রমই আগামী দিনের সফলতা। মন খারাপ হলেও পড়াশোনা ছেড়ে দেবেন না। মনে রাখবেন— আপনার ভবিষ্যৎ আপনার হাতেই। লেখক: মোঃ নাসির